ঝিংগাবাড়ী ইউ/পির আগতালুক এলাকায় ৬ সন্তানের জননীকে ধর্ষণের চেষ্ঠার পর ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় কানাইঘাট থানায় মামলা দায়ের করেছেন বিধবা নারী-

সিলেট

কানাইঘাটের ঝিংগাবাড়ী ইউপির আগতালুক এলাকায় ৬ সন্তানের জননীকে ধর্ষণের চেষ্ঠার পর ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় কানাইঘাট থানায় মামলা দায়ের করেছেন এক বিধবা নারী। থানার মামলা নং- ১৩, তারিখ- ১৩/০৯/২০২১ইং।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ আগষ্ট শনিবার রাত অনুমান সাড়ে ১২টায় ঐ নারীর বাড়িতে গিয়ে দরজায় ডাকাডাকি শুরু করেন একই এলাকার আগতালুক পূর্ব গ্রামের বরকত উল্লাহ বখরের পুত্র আব্দুল্লাহ উরফে কাড়াকাল (৪২), মৃত নুর উদ্দিনের আব্দুল্লার উরফে মার্ডারী আব্দুল্লাহ (৩২), রফিক আহমদের পুত্র সাইদ উল্লাহ (৪০), সিরাজুল হকের পুত্র আব্দুল জব্বার (২৭)। এ সময় ঐ নারী বারান্দার গ্রীলের সামনে এলেই তারা দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ঘরের বিতরে ডুকে ঐ নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার ভিডিও মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করে।

পরে ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে বিধবা নারীর প্রবাসী ছেলেদের কাছে তারা ৫ লাখ টাকার চাদাঁ দাবী করে। এ ঘটনার পরদিন ঐ নারী আত্মরক্ষার্থে তার পিত্রালয়ে একই উপজেলার বড়দেশ এলাকায় চলে যান। এরপর বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে ঐ নারী কানাইঘাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে কানাইঘাট থানা পুলিশ সরেজমিনে তদন্তে গেলে টনক নড়ে অপরাধীদের। তারা একই গ্রামের মুরব্বী মৌলভী সিফত উল্লাহ, ডাক্তার সেলিম উদ্দিন, আমিন উদ্দিন ও আতাব আলীকে দিয়ে বিষয়টি আপোষ নিষ্পত্তির চেষ্টা চালায়।

একই এলাকার হাজী জুনাব আলী বলেন, বিধবা আনোয়ারা বেগমের ৬ সন্তান রয়েছে। এরমধ্যে দুই ছেলে প্রবাসে থাকে। তিন মেয়ে বিবাহিত ও এক ছেলে বাড়িতে থাকে। এই বয়স্ক বিধবা নারীর উপর রাতের আধারে জোরপূর্বকভাবে ধর্ষণ চেষ্টার ভিডিও করে ফেসবুকে ছাড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে উল্লিখিত অপরাধীরা ঐ নারীর প্রবাসী ছেলেদের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। বর্তমানে ঐ নারী ইজ্জত সম্মানের ভয়ে তার পিত্রালয়ে চলে গেছে।

তিনি বলেন, আমরা এই ধর্ষক নরপশুদের কাছে খুবই অসহায়। এরা এলাকার আরো বহু নারীর ইজ্জত এভাবে নষ্ট করেছে।

গ্রামবাসী জানান, আগতালুক পূর্ব গ্রামের বরকত উল্লার পুত্র আব্দুল্লাহ উরফে কাড়াকাল একজন ভয়ানক অপরাধী তার বিরুদ্ধে এলাকায় আরো অনেক প্রবাসীর স্ত্রীদের সঙ্গে এভাবে ধর্ষণের চেষ্ঠার ভিডিও ধারণের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া মৃত নুর উদ্দিনের পুত্র আব্দুল্লাহ উরফে মার্ডারী আব্দুল্লার বিরুদ্ধে একই এলাকার দলইকান্দী গ্রামের নুর উদ্দিন হত্যা মামলা সহ ধর্ষণ ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের নানা অভিযোগ রয়েছে। তারা সব সময় রাম দা ডেগার নিয়ে চলাফেরা করে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ সাহস করে কথা বলেনা।

এলাকাবাসী জানান, একই এলাকার হারুন রশিদ উরফে হারুন মেম্বারের বডি গার্ড হিসাবে পরিচিত উক্ত ধর্ষণ চেষ্টাকারী আব্দুল্লাহ কাড়াকাল ও সাইদ উল্লাহ। সেই কারণে এলাকায় তারা বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে গেলেও কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায়না। তাই হারুন মেম্বারের সহযোগীতায় এসব অরাধ কর্মকান্ড থেকে তারা সহযে ছাড়া পেয়ে যায়।

কানাইঘাট থানার ওসি তাজুল ইসলাম পিপিএম বলেন, উক্ত ধর্ষণ চেষ্টা ও ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় ৪ জনের বিরুদ্ধে ঐ নারী ধর্ষণের চেষ্টা ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেছেন। এতে ভিডিও দেখে ঐ চারজনকে সনাক্ত করা হয়েছে এবং উক্ত আসামীদেরকে গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।

এদিকে এলাকার নিরীহ অসহায় পরিবারের বিধবা স্ত্রীদের উপর ধর্ষকদের এমন বর্বরোচিত ঘটনার তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের পাশাপাশি এসব অপরাধী সন্ত্রাসীদেরকে গ্রেফতার করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *