সিলেটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান টিকটক ভিডিও: কঠোর হচ্ছে কর্তৃপক্ষ

সিলেট

কোভিড-১৯ করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রায় দেড় বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় টিকটক কিংবা লাইকির মতো ভিডিও প্লাটফর্মে ঝুঁকে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। কেউ কেউ আবার আসক্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে পথঘাটে যখন-তখন, যেখানে সেখানে কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করেই ভিডিও করছেন তরুণ-তরুণীরা। শুধু রাস্তাঘাট বা রেস্টুরেন্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় একেবারের স্কুল ও কলেজের ইউনিফর্ম পড়ে বিভিন্ন ভাব-ভঙ্গিতে ক্লাস রুমের ভিতরেও ভিডিও তৈরি করে আপলোড করছে শিক্ষার্থীরা। করোনা ভাইরাসের কারণে ঘরে বসে সময় কাটানো, বিনোদন এবং অর্থ আয়ের পাশাপাশি এসব প্লাটফর্মে সংযুক্ত হয়েছে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী। এধরণের অ্যাপে ভিডিও তৈরি করে ভার্চুয়াল খ্যাতি অর্জনের এক অশুভ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। তাই কলেজ ক্যাম্পাসে ভিডিও ধরাণ করলে শাস্তির আওতা আনা হবে শিক্ষার্থীদের।

সম্প্রতি সিলেটের দুটি কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে সব ধরণের ভিডিও ধারণা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কলেজগুলো হলো- সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ ও বিশ্বনাথ সরকারি ডিগ্রী কলেজ। গত বুধবার(১৫ সেপ্টেম্বর) বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া টিকটক, লাইকি, বিগো লাইভসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে ভিডিও ধারণ নিষিদ্ধ করে বিজ্ঞপ্তি জারি করে কলেজ প্রশাসন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কলেজ ক্যাম্পাসে মুঠোফোন, ক্যামেরা কিংবা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস দিয়ে ভিডিও ধারণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ক্ষেত্রে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানায় কলেজ প্রশাসন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশে করোনার প্রকোপের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাকালে টিকটক, লাইকিসহ অ্যাপভিত্তিক কিছু অনলাইন মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নেতিবাচক তৎপরতা সম্পর্কে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসব অ্যাপ ব্যবহারে সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা নষ্ট হচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের এসব কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতেই কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো.তারিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ বিরতির পর শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ফিরেছে। এমন পরিস্থিতিতে তারা যেন নেতিবাচাক দিকে প্রভাবিত না হয়, সেটি নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কলেজ ক্যাম্পাসে ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের মাধ্যমে কেউই যেন বিনা অনুমতিতে ভিডিও ধারণ করতে না পারে, সে জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। তবে গণমাধ্যম এর আওতার বাইরে থাকবে। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সমাজের বিভিন্ন মহলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

এরপর দিন বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্বনাথ ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাপসী চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞতিতে বলা হয়, বিশ্বনাথ সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে যে কোনো ধরণের ভিডিও ধারণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এরপর কেউ যদি ভিডিও ধারণ করে তবে ভর্তি বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এব্যাপারে কথা হলে বিশ্বনাথ সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাপসী চক্রবর্তী বলেন,অনেকদিন বন্ধ থাকার পর কলেজ খুলেছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন ধরণের শিক্ষার্থী আসবে। আইনশৃঙ্খলার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে স্কুল-কলেজ ক্লাসের কথা বলে অনেকেই বাসা-বাড়ি থেকে বেরিয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে গিয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হয়ে ভিডিও করছেন। বিশেষ করে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সিলেট নগরীর ভিআইপি রেস্টুরেন্টগুলোতে ভিড় থাকে শিক্ষার্থীদের। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর থেকে ভিডিও প্লাটফর্ম অ্যাপগুলোতে গেটে দেখা যায়, সিলেট নগরীর থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের কলেজগুলোতে ক্লাস রুমে শিক্ষার্থীরা হিন্দি গানের সাথে ঠোঁট মিলিয়ে নাচছেন। কেউ আবার পা উচিয়ে বিভিন্ন ডায়লগ দিয়ে ক্লাস রুমে প্রবেশ করছেন। সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ,  সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে, গোয়ালাবাজার সরকারি কলেজ,মৌলভীবাজার সরকারি কলেজসহ বেশ কয়েকটি কলেজের  ভিডিও সিলেট প্রতিদিনের কাছে এসেছে।

সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মমতাজ বেগম বলেন, কলেজের ভিতরে বা শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ব্যবহার একদম নিষিদ্ধ। যারা ব্যবহার করে আমরা এটা মনিটরিং করছি। যাদের কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া যাবে, তাদের মোবাইল আমরা নিয়ে নেব এবং অভিভাবকদের ডেকে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। একই সাথে যারা লাইকি-টিকটক করছে তাদের বিষয়টি আমরা মনিটরিং করে ব্যবস্থা নেব।

তিনি আরও বলেন, অভিভাবকরা যদি সচেতন হন তাহলে শিক্ষার্থীরা স্কুলে বা কলেজের স্মার্ট ফোন আনতে পারবে না। ফোন না আনতে পারলে শ্রেণী কক্ষে কোনো ধরণের ভিডিও ধারণের সুযোগ পাবে না।

সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শামীমা আক্তার চৌধুরী বলেন, বর্তমানে কলেজে কোনো শিক্ষার্থী কোনো ভাবেই টিকটক ভিডিও করতে পারবে বলে মনে হয় না।কারণ কলেজে মাত্র দুটি বিষয়ে ক্লাস হচ্ছে। এই সময়ে তারা সবাই শিক্ষকদের আওতায় থাকছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই ধরণের কালচার কাম্য নয়।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টির ব্যাপারে আমরা কলেজ কর্তৃপক্ষ থেকে প্রয়োজনে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে, যাতে আমাদের শিক্ষার্থীরা টিকটক ভিডিও না করে। যদি কোনো শিক্ষার্থী কলেজে টিকটক ভিডিও করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সত্যজিত রায় দাশ বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এই মাত্র জানলাম। কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *