নির্বাচনের রোডম্যাপ তৈরি করছে বিএনপি

রাজনীতি

নির্বাচন ও আন্দোলনের রোডম্যাপ কিংবা কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে বিএনপি। সেই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে দলের নির্বাহী কমিটির বৈঠক ডেকেছে দলটি। বিএনপির নেতারা বলেছেন, দ্রুত দল গুছিয়ে আন্দোলনমুখী করতেই নির্বাহী কমিটির সাথে হাইকমান্ডের এই বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যেখানে নেতারা তাদের মতামত তুলে ধরবেন, পরামর্শ দেবেন আগামী দিনের করণীয় নিয়ে।

জানা গেছে, আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ধারাবাহিক সভা অনুষ্ঠিত হবে। ভার্চুয়াল বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত শনিবার সন্ধ্যায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

জানা গেছে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটিসহ সংশ্লিষ্টরা গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন কার্যালয়ে সশরীরে নির্বাহী কমিটির প্রতিটি সভায় উপস্থিত থাকবেন। প্রতিদিন বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে এই বৈঠক শুরু হবে। আগামীকাল মঙ্গলবার প্রথম বৈঠকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্যরা অংশ নেবেন। এরপর বুধবার সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদক ও সহসম্পাদকদের নিয়ে বসবে বিএনপি। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথেও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পর্যায়ক্রমে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলাপর্যায়ের নেতাদের সাথেও বিএনপির হাইকমান্ড বৈঠক করবে বলে জানা গেছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশন গঠন ইস্যুতে স্থায়ী সমাধান চাই। তবে এর আগে নিরপেক্ষ সরকার চাই যাদের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে। সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে এ সমাধান হতে হবে। এ জন্য দেশের গণতান্ত্রিক সব রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট নাগরিকদের মতামত নিতে হবে। কাজটি এমনভাবে করতে হবে যা সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য হয়। বিগত দিনের মতো একতরফা হলে কেউ মেনে নেবে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলীয় ফোরামে আলোচনার পর আমরা নির্বাচন কমিশন গঠন ইস্যুতে আমাদের প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির কাছে দেবো। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন যতক্ষণ পর্যন্ত না হবে আমাদের আন্দোলন চলবে। দেশের জনগণ এ সরকারের অধীনে কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে বলে মনে করে না।

বিএনপির দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জানান, নির্বাহী কমিটির বৈঠক সাধারণত কমিটির সবার উপস্থিতিতে বড় পরিসরে হয়ে থাকে। কিন্তু বড় কোনো স্থান না পাওয়ায় গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটি অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের হোটেল লা মেরিডিয়ানে ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি কারাবন্দী হওয়ার পর আর কোনো সভা ডাকা হয়নি।

স্থায়ী কমিটির শনিবারের বৈঠক সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে যে প্রস্তুতির কথা বলেছেন, তা নিয়ে বৈঠকে বেশ গুরুত্বের সাথে আলোচনা হয়েছে। নেতাদের প্রশ্ন, সরকারের মেয়াদ এখনো দুই বছরের বেশি সময় বাকি। এত আগে সাধারণত ক্ষমতাসীনদের দিক থেকে নির্বাচনের কথা বলা হয় না। কেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এত আগেই নির্বাচনের কথা বলছেন, বিষয়টি ভাবতে হবে। এই অবস্থায় আগামী বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এরই মধ্যে নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকার নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে চলতি বছরে প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। এটা নিয়ে বিএনপিকে ব্যস্ত করা হতে পারে।

বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সব নেতাই একমত হন, দেশে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হলে একটি নিরপেক্ষ সরকারের প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ও ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন প্রমাণ করে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় রেখে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। এই অবস্থায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে করণীয় ঠিক করতে হবে। সেজন্য দলের সবার মতামত নিতে হবে। স্থায়ী কমিটির নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্টজনদের মতামতও নেয়া হবে। এ নিয়ে বিএনপি দলীয়ভাবে একটি প্রস্তাবনাও তুলে ধরবে। পরে রাষ্ট্রপতি সময় দিলে তার সাথেও বৈঠক করতে চায়। সেখানেও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বিএনপির দাবিগুলোও পুস্তক আকারে তুলে ধরা হবে।

প্রত্যাহার হচ্ছে ১২ ছাত্রদল নেতার বহিষ্কারাদেশ : স্থায়ী কমিটির বৈঠকে চলমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে ১২ ছাত্রদল নেতার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহারেরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা বহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ১২ জন সদস্যকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। জানা যায়, শনিবার স্থায়ী কমিটির সভায় তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রস্তাব দেন। তা সমর্থন করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান। এরপর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শিগগিরই তাদের বহিষ্কারাদেশ তুলে নেয়ার চিঠি দেয়া হবে। সেই ১২ ছাত্র নেতা হলেন, বাশার সিদ্দিকী, জহির উদ্দিন তুহিন, এজমল হোসেন পাইলট, ইকতিয়ার কবির, মামুন বিল্লাহ, আসাদুজ্জামান আসাদ, বায়েজিদ আরেফিন, দবির উদ্দিন তুষার, গোলাম আজম সৈকত, আব্দুল মালেক ও আজীম পাটোয়ারী।
জাসাসের কমিটি বিলুপ্ত : জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাসের) মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *