তিন ইস্যুতে ঈদের পর মাঠে নামছে বিএনপি

রাজনীতি

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঈদের পর তিন ইস্যুতে সরব হবে বিএনপি। সরকার পরিবর্তনের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন জোরদার করবে দলটি। এক্ষেত্রে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি আদায় বিএনপির লক্ষ্য। এ ছাড়া নির্বাচন পরবর্তী জাতীয় সরকার গঠনের রূপরেখা জনপ্রিয় করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে যাবে দলটি।

বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, রোজা গেলে বুঝতে পারবেন আন্দোলন কাকে বলে।

 

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে। এ দাবিতে ঈদের পর দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

জানা যায়, তিন ইস্যু বাস্তবায়নে সরকারবিরোধী বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিএনপি। দীর্ঘদিন ধরে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিও জানিয়ে আসছে বৃহৎ এই রাজনৈতিক দলের নেতারা। পাশাপাশি রাজপথের অংশীজনদের নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের যে ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি, তার খসড়া রূপরেখা ও কর্মসূচি তৈরি করা হচ্ছে। সূত্র মতে, জাতীয় সরকারের রূপরেখা তৈরি করতে ইতোমধ্যে দলের উচ্চপর্যায়ের একাধিক নেতা কাজ শুরু করেছেন। ঈদের পরপরই এটি তৈরি হতে পারে। ঈদের পর নির্বাচন উত্তর জাতীয় সরকারের খসড়া রূপরেখা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি পেশাজীবী, মানবাধিকার সংগঠনসহ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা করবে বিএনপি। এরপর এর রূপরেখা ও কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় সরকার বিষয়ে ক্ষমতাসীনদের মনোভাবও বোঝার চেষ্টা করছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা। তবে বিএনপির প্রস্তাবিত জাতীয় সরকারের প্রধান কে হবেন, সেটা এখনো পরিষ্কার নয়। এ বিষয়ে বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, আন্দোলনরত দলগুলোর মধ্যে বড় দল থেকেই সরকারপ্রধান হবেন। তবে সেটা এখনই জানানো হবে না। নেতারা বলছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি সরকারবিরোধী যে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ার চেষ্টা করছে, এ ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোকে নীতিগত ঐক্যের মধ্যে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। এরপর তাদের নিয়ে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের কাঠামো এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার কৌশল ঠিক করা। এর ধারাবাহিকতায় নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ‘জাতীয় সরকার’ গঠন এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, আন্দোলন, নির্বাচন এবং নির্বাচনোত্তর জাতীয় সরকার এই লক্ষ্যে যে রাজনৈতিক পথরেখা তৈরি করা হচ্ছে, সেটি হবে মূলত ‘পরিবর্তনের কর্মসূচি’, যেখানে সংবিধান, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন ও সরকারি কর্মকমিশনসহ (পিএসসি) রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় আঙ্গিকে সংস্কারের অঙ্গীকার থাকবে। রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই এটা করা হচ্ছে বলে জানান তারা।

সামগ্রিক বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারকে হটাতে বৃহত্তর ঐক্যের বিকল্প নেই। আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এ প্রক্রিয়া শুরু করেছি। ইতোমধ্যে প্রাথমিক আলোচনাও হয়েছে। বৃহত্তর ঐক্যের মতো কঠিন কাজ সফলভাবে করতে গেলে আমাদের সামনে নানা চ্যালেঞ্জ আসবে। আমরা সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই এগোচ্ছি। আশা করি এতে সফল হতে পারব। কারণ আমরা যা চাইছি, দেশের মানুষ যা চাইছে সরকারবিরোধী অন্য দলগুলোর চাওয়া একই। তাই লক্ষ্য এক হলে ঐক্য হতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.