এক হাজারে কেনা কাপড়ের দাম ৫ হাজার টাকা!

ব্যবসা-বাণিজ্য সিলেট

১ হাজার টাকায় কেনা কাপড় দাম চাওয়া হয় ৫ হাজার টাকা । ভোক্তাদের সাথে দাম কষাকষি করে তা বিক্রি হয় কখনও ৪ হাজার টাকায় আবার কখনও ১৫০০ টাকায়। বছরের পর বছর ধরে সিলেটের বিভিন্ন কাপড়ের বাজারে এভাবেই চলছে বেচাকেনা। ফলে কাপড় কিনতে গিয়ে হরহামেশাই হিমসিম খেতে হয় সাধারণ ভোক্তাদের।

দরকাষাকষি না করতে পেরে অনেকেই হয়তো দ্বিগুন তিনগুন দামে কাপড় কিনে হচ্ছেন ক্ষতির সম্মুখীন আবার অনেকে একাধিক দোকান যাছাই বাচাইয়ের মাধ্যমে দরকষাকষি করে যথাযথ দামে কাপড় কিনতে পারলেও ব্যয় হচ্ছে অতিরিক্ত সময় ও শ্রম।

ভোক্তাদের এ ধরণের হয়রানি ও প্রতারণা থেকে মুক্তি দিতে সিলেটে কাপড়ের দোকানে অভিযান শুরু করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। কাপড়ের গায়ে কোনো গোপন কোড নয় বরং সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয় মূল্য লেখা নিশ্চিত করতে সোমবার দিনব্যাপী গোলাপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মার্কেটে অভিযান চালিয়েছে অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়।

অভিযান চলাকালে কাপড়ের দোকানে দাবিকৃত বিক্রয়মূল্যের সাথে ক্রয় রশিদে উল্লেখিত মূল্যের অসামঞ্জস্য, ক্রয় রশিদ প্রদর্শন করতে না পারা, অতিরিক্ত মূল্যে কাপড় বিক্রি করা, এবং কাপড়ের গায়ে স্টিকারে সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য না লেখে বিভিন্ন গোপন কোড লিখে রাখার অপরাধে প্রাথমিক অবস্থায় সতর্কতামূলক কার্যক্রম হিসেবে তামান্না এন্ড আমিনা ফ্যাশনকে ২ হাজার টাকা, ফেয়ার লিডিসকে ২ হাজার টাকা, আনিছা ফ্যাশনকে ২ হাজার টাকা, সায়ান ফ্যাশনকে ২ হাজার টাকা এবং নীলিমা ফ্যাশন এন্ড কসমেটিকস শপকে আরো ২ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়। ৫ প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

এসময় অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঈদের কেনাকাটায় ভোক্তাদের হয়রানি ও প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করতে শাড়ি-কাপড় ও প্রসাধনি সামগ্রির দোকান এবং পরিবহন খাতে এধরণের অভিযান অব্যহত থাকবে। তবে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করতে প্রাথমিক অবস্থায় জরিমানার পরিমাণ সীমিত রেখে সচেতনতামূল প্রচারণায় জোর দিচ্ছে ভোক্তা অধিদপ্তর।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, সিলেট জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলো র্যাব– ৯ এর একটি টিম।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.