আগামীর মানবসম্পদ উন্নয়নে চাই পরিকল্পিত উদ্যোগ -ড. মো. আব্দুল হামিদ।

মুক্তমত

 

সম্প্রতি ১ হাজার ৮১৪ পদের জন্য প্রায় সাড়ে চার লাখ পরীক্ষার্থী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি পদের বিপরীতে লড়ছে প্রায় ২৪০ জন! অন্যান্য পরীক্ষায়ও (বিশেষত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষায়) আমরা এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখি। তবে এক্ষেত্রে গুণগত পার্থক্যের জায়গা হলো এই সাড়ে চার লাখ পরীক্ষার্থীর সবাই দেশের প্রথম শ্রেণীর চাকরি পাওয়ার যোগ্যতা রাখে!

অর্থাৎ প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখার দিক থেকে তারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী। দীর্ঘ একাডেমিক পথ সফলতার সঙ্গে পাড়ি দিয়ে এই পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন কথা হলো তারা যত মেধাবীই হোক না কেন, তাদের মধ্যে এই পরীক্ষায় সফল হবে মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ! তাহলে বাকি ৯৯ দশমিক ৬ শতাংশ যাবে কোথায়? তারা যদি প্রত্যাশিত কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়, চরমভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে, সে ভার আমরা সইতে পারব তো?

এক্ষেত্রে তিনটি আঙ্গিক বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়। সেগুলো হলো, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের গরমিল, বেসরকারি খাতে বিদ্যমান বিনিয়োগ প্রবণতা এবং কর্মসংস্থানের প্রতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দৃষ্টিভঙ্গি।

গত এক দশকে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বড় বাজেটের অনেক প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। তার মধ্যে এমন কিছু প্রকল্প রয়েছে, যা বাংলাদেশের মানুষ একসময় কল্পনাও করতে পারত না। অথচ সেগুলো এখন বাস্তবায়নের মাঝামাঝি বা প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু টানেল, রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র, অসংখ্য বৃহৎ সেতু, ঢাকা ও চট্টগ্রামের ফ্লাইওভার, ছয় বা আট লেনের মহাসড়কের মতো প্রকল্পগুলো এখন বাস্তবতা।

মাত্র তিন দশক আগে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার যে বেহাল ছিল, তা থেকে সত্যিকার অর্থেই আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু চলমান এ প্রকল্পগুলোয় দেশীয় শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ একেবারে কম। প্রকল্পগুলোর ওপরের দিকে বিদেশী কর্মীদের আধিক্য লক্ষণীয়। দেশী কর্মীরা রয়েছেন নিম্নস্তরে বা শ্রমিক পর্যায়ে। ফলে প্রকল্পগুলোর সম্পাদন পর্যায়ে দেশীয় শিক্ষিত শ্রেণীর কর্মসংস্থান খুব একটা হচ্ছে না।

সম্প্রতি আরেকটি ভালো খবর নজরে এসেছে। সেটা হলো, আমাদের মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ আড়াই হাজার ডলারে উন্নীত হয়েছে! যদিও উন্নয়নের সুবিধা প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত উপচে পড়ছে না, আয়বণ্টনে বড় বৈষম্য রয়েছে, তবুও সামগ্রিকভাবে মানুষের জীবনযাত্রার মান আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে।

কিন্তু এখানে লক্ষণীয় ব্যাপারটি হলো, দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান বা ভোগ প্রবণতা যেভাবে বাড়ছে, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ সেই মাত্রায় হচ্ছে না। কয়েক দশক আগেও স্থানীয় কাঁচামালনির্ভর অসংখ্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ চোখে পড়ত। ক্রমেই সেগুলো সংকুচিত হয়ে পড়ছে। প্রায় প্রতিটি শিল্পে প্রভাবশালী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য দেখা যাচ্ছে।

ফলে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি নতুন উদ্যোগ গ্রহণের প্রবণতা কমছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নানা অধিদপ্তর-পরিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দুর্নীতির ব্যাপারে অভিযোগ রয়েছে। নিয়ম মেনে, বৈধভাবে ব্যবসা করলেও তাদের মাসোহারা ঠিকমতো না দিলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তাদের নানা হয়রানি করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। পাশাপাশি করোনা মহামারীর প্রভাবেও এমন অসংখ্য উদ্যোগ স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে অতি প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা বড় প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে নানা কায়দায় সংগৃহীত অর্থ দেশের অভ্যন্তরে বিনিয়োগের চেয়ে বিদেশে পাঠানো নিরাপদ মনে করছেন। তাদের পরিবার যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া বা মালয়েশিয়ার মতো দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। অনেকেই দেশে বিনিয়োগের চেয়ে বেশি অর্থ বিদেশে পাচার করছেন বলে খবর মাঝেমধ্যেই গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। সেখানে বিনিয়োগ করার মাধ্যমে নিজেদের পায়ের তলার মাটি শক্ত করছেন। ই-কমার্সের নামে নানা প্রতারণামূলক উদ্যোগ থেকেও হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের খবর ইদানীং শোনা যায়।

আসলে বৈধ-অবৈধ যেমন অর্থই হোক না কেন, সেগুলো দেশের অভ্যন্তরে থাকলে কোনো না কোনোভাবে তা থেকে সুবিধা মেলে। সেগুলোর প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ বিনিয়োগ দেশের কর্মসংস্থানে বিশেষ ভূমিকা রাখে। কিন্তু তা একবার দেশের বাইরে চলে গেলে তা থেকে আর কোনোভাবেই উপকৃত হওয়ার সুযোগ থাকে না। তাছাড়া বেসরকারি খাতে হাতেগোনা কিছু প্রতিষ্ঠান ভালো করলেও ক্রমে তা কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে। এ কারণে বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান প্রত্যাশিত মাত্রায় হচ্ছে না।

তৃতীয় যে বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ সেটা হলো, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কর্মসংস্থানের ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গি। এখানে ধরেই নেয়া হয় যে একজন শিক্ষার্থীর পড়ালেখার উদ্দেশ্য হলো চাকরি করা। শিক্ষার হার কম থাকাকালে এমনটা হতো বলেই হয়তো তেমন প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এখন শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা যে হারে বাড়ছে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সেই মাত্রায় বাড়ছে না। আগামীতে হঠাৎ করে তেমন সুযোগ বাড়ার সম্ভাবনাও কম। তাহলে কয়েক কোটি লেখাপড়া জানা তরুণ-তরুণী কী করবে?

অনেকের ভাবখানা এমন যে তার বুঝি জন্মই হয়েছে চাকরি করার জন্য। অর্থাৎ যা-ই হোক তাকে চাকরি করতে হবে। অন্য কোনো কাজের কথা বিবেচনা করতেও পারে না। অন্যরা পরামর্শ দিলেও তা কানে তোলে না। কিন্তু তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে ভালো একটা চাকরি পাওয়ার মতো যোগ্যতা যে তার নেই, সেটা সে নিজেও বুঝে! তাহলে তার ভবিষ্যৎ কী? কত বছর পরে সে উপলব্ধি করবে যে এ লাইনে সফল হওয়া সম্ভব নয়!

মার্কেটিংয়ে বলা হয়, মানুষের সন্তুষ্টি মূলত নির্ভর করে তার প্রত্যাশার মাত্রার ওপর। অর্থাৎ ফুটপাত থেকে ৩০০ টাকা দিয়ে কেনা জুতা ছয় মাস পরতে পারলেই সন্তুষ্ট হয়। কিন্তু নামি ব্র্যান্ডের শোরুম থেকে ৩ হাজার টাকায় কেনা জুতা দুই বছর পরেও সামান্য ত্রুটি দেখা দিলে মন খারাপ হয়। দুই জুতার ক্ষেত্রে কেন দৃষ্টিভঙ্গির এত পার্থক্য হলো? কারণ খ্যাতিমান ব্র্যান্ডের পণ্যের কাছে তার প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি।

ঠিক তেমনিভাবে লেখাপড়া করছে ভালো চাকরি পাওয়ার জন্য—এ প্রত্যাশা তরুণ প্রজন্মের বড় অংশকে হতাশ করছে। তারা বিকল্প কিছু ভাবতেই পারছে না। বছরের পর বছর তারা কোনো কাজে যুক্ত না হওয়ায় মনোবল ভেঙে পড়ছে। শারীরিক ও মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত হচ্ছে। এভাবে দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী হতাশ হয়ে পড়লে দীর্ঘমেয়াদে তার ক্ষতিকর প্রভাব হবে মারাত্মক। তাই এ প্রবণতায় লাগাম টানা খুব দরকার।

এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গেলে অনেকেই ক্ষুব্ধ হন। কেউ কেউ বলেন, চাকরি ছাড়া তারা আর কী করতে পারে, আপনিই বলে দেন। তারা এমন আচরণ করার প্রধান কারণ হলো, পুরো শিক্ষাজীবনে বাস্তবসম্মতভাবে চিন্তা করতে না শেখা। কারণ ঢাকা শহর ও কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত গ্রামে বেড়ে ওঠা দুজন তরুণের বাস্তবতায় ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। ফলে সবার জন্য একই ওষুধ কাজ করবে না। তবে উভয়কেই ‘একটা কিছু’ করতে হবে, সেটা অনিবার্য।

টিকে থাকা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য একটা কিছু করা যে অসম্ভব নয়, তার বড় প্রমাণ হলো, যে তরুণ বছরের পর বছর এখানে বেকার রয়েছে, তাকে কোনোমতে ঠেলে যদি দেশের সীমানা পার করে দেয়া যায়, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে শিখে যায়—কাজ কীভাবে খুঁজে বের করতে হয়! দেশে থাকতে খড় ভেঙে দুইখান করত না এমন যুবককে স্পেনে যেসব কাজ করতে দেখেছি, তা বিশ্বাস করা সত্যিই কঠিন।

ওসব দেশে কাজের কোনো নিশ্চয়তা নেই, যেকোনো সময় পুলিশ ধরতে পারে। তার পরও প্রতিদিনের জন্য তারা লড়াই করে। কেউ তাকে বলে দেয়ার দরকার হয় না—তুমি এই কাজটা করো; বরং তার মাথায় প্রতিনিয়ত ঘুরপাক খায়—কালকের দিনটা কী করা যায়? এভাবে টিকে থাকার স্বার্থে তারা বিদেশের মাটিতে প্রতিনিয়ত লড়াই করছে। মজার ব্যাপার হলো এমন অনিশ্চয়তা জানার পরেও আমাদের তরুণরা সেই সব দেশে যাওয়ার জন্য উদগ্রীব! জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা সেখানে যেতে এক পায়ে খাড়া!

ইতালিতে দেখেছি অসংখ্য বাংলাদেশী কাজ পাচ্ছে না। তার পরও প্রতিদিন নতুন মানুষ ইতালিতে যাচ্ছে। সেখানে গিয়ে তারা কী করবে? এ প্রশ্নের উত্তর নেই। তবে সেখানে যাওয়ার পরে নিশ্চয় ‘একটা কিছু’ করবে। কারণ তা না হলে তো টিকে থাকা যাবে না। আমার কথা হলো অচেনা-অজানা পরিবেশে, প্রতিকূল আবহাওয়া ও সংস্কৃতিতে যদি যা তা করা যায়, তবে কেন নিজের অনুকূল পরিবেশে করা যায় না?

যে সাড়ে চার লাখ শিক্ষার্থী সম্প্রতি বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে, তাদের মধ্যে আগামী কয়েক বছরে বড়জোর লাখ খানেক তরুণ বিভিন্ন চাকরিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে। তাহলে অবশিষ্টদের কী হবে? তাদের মা-বাবাও অনেক স্বপ্ন নিয়ে, ত্যাগ স্বীকার করে সন্তানদের পড়ালেখা করিয়েছেন। অথচ এখন কষ্ট ভুলে থাকতে অনেকে নেশার আশ্রয় নিচ্ছে। প্রতারণার মতো নানা অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের জীবন এভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে কিংবা চোরাবালিতে নিঃশেষ হয়ে যেতে পারে না, যাওয়া উচিত নয়। কারণ মানবসম্পদ সত্যিই অমূল্য এক সম্পদ, যার দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা অনেক বেশি উপকৃত হতে পারি।

তাই সরকারকে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সরকারি নানা দপ্তরে শূন্য পদগুলো পূরণের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পে দেশীয় তরুণদের কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিপুলসংখ্যক বিদেশী অবৈধভাবে এখানে কাজ করছে। তাদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। তাছাড়া বিদেশী কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে নানা পন্থায় বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করা হয়।

বিদেশী কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে অনুপাত নির্ধারণ করে দেয়া এবং সেটা যথাযথভাবে প্রয়োগ হচ্ছে কিনা, তা নিয়মিত তদারকি করা দরকার। আফ্রিকান বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা অবৈধভাবে এখানে অবস্থানের পাশাপাশি নানা প্রতারণা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে। তাদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নেয়া জরুরি।

পাশাপাশি যে কাজটি করা অত্যন্ত জরুরি সেটা হলো, দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করা। দেশের অর্থ পাচার রোধে সর্বোচ্চ মাত্রায় কঠোর হওয়া। কারণ দেশের অভ্যন্তরে বেসরকারি খাতে সমহারে বিনিয়োগ না হলে সরকারি বড় প্রকল্পগুলোর পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করা সম্ভব হবে না। শুধু তৈরি পোশাক শিল্প নয়, বরং বৈচিত্র্যময় নানা খাতে বিনিয়োগে প্রেষণা দেয়া এবং অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা জরুরি।

বিদেশে দক্ষ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে শিক্ষিত তরুণদের দক্ষ করে তুলতে হবে। ফ্রিল্যান্সিংসহ অনলাইনে আয়ের পথ সুগম করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া জরুরি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিনিয়োগে নানা সুবিধা প্রদান করা অনেক বেশি কল্যাণকর। নগরকেন্দ্রিক শিল্প উদ্যোগকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে পারলে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।

আমরা প্রায়ই টেকসই উন্নয়নের কথা বলি। কিন্তু সত্যিকারের টেকসই হতে গেলে দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি তৈরি করা দরকার। শুধু সনদনির্ভর গ্র্যাজুয়েট তৈরি করলে তাদের প্রত্যাশা বাড়ে। কিন্তু যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে এগিয়ে নিতে পারে না। খুব সংগত কারণেই একজন তরুণ বা তার অভিভাবকদের এসব বিষয় বোঝার কথা নয়। ফলে তারা বিদ্যমান সিস্টেমে চেষ্টা করেন, আশা করেন এবং একপর্যায়ে হতাশ হন।

তাই অভিজ্ঞদের পরামর্শক্রমে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশের তরুণদের এক উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো সামান্য সুযোগ সৃষ্টি করে দিলেই তারা সেখানে সফলতা পেতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাই আগামীর মানবসম্পদ উন্নয়নে পরিকল্পিতভাবে অগ্রসর হতে হবে। সেটা সম্ভব হলে সত্যিকারের ‘সোনার বাংলা’ গড়ে ওঠা খুবই সম্ভব।

ড. মো. আব্দুল হামিদ: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ও ‘একটা কিছু করো, প্লিজ’ বইয়ের লেখক। উৎস: বণিকবার্তা, ০৯ নভেম্বর ২০২১।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *